স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
গত ২ আগস্ট আরিয়ানা গ্রান্দের প্রতিনিধি সংক্ষিপ্ত একটি বিবৃতি দেন। তাতে জানানো হয়, ‘ইটার্নাল সানশাইন’ সফর শেষ হলে জনসমক্ষে আর দেখা যাবে না এই গায়িকাকে। সফর শেষ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর, আর এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে আগে থেকে ঠিক করা কয়েকটি অনুষ্ঠান।
কারণ হিসেবে বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, তাতে রাখঢাক নেই। জনসম্মুখের কাজ ঘিরে যে সমালোচনা অবিরাম চলতে থাকে, সেখান থেকেই বিরতি নিচ্ছেন ৩৩ বছর বয়সী এই শিল্পী।
পরদিন ৩ আগস্ট শিকাগোর কনসার্টে গান থামিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। দর্শকদের কাছে জানতে চান, একটু খোলাখুলি কথা বলা যাবে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার দ্য বেভারলি হিলটনে ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ৮৩তম বার্ষিক গোল্ডেন গ্লোবসে আরিয়ানা গ্রান্দে। ছবি: গেটি ইমেজেস
গ্রান্দে জানান, সিদ্ধান্তটি হুট করে নেওয়া নয়, প্রতিক্রিয়া দেখিয়েও নয়। অনেক আগেই নীরবে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। ভাবনাচিন্তা থেকেই এসেছে বলে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, একসঙ্গে অনেক কিছুই সত্য হতে পারে।
ঘোষণার কয়েকদিন আগে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর নতুন গান ‘পেটাল’-এর মিউজিক ভিডিও। সেখানে একদল পুরুষ কাস্টিং পরিচালক টেবিলে বসে তাঁর চরিত্রের চেহারা নিয়ে সমালোচনা করেন, রায় দেন যে মেয়েটি ‘যথেষ্ট নয়’।
ভিডিওটির বার্তা নিয়ে আলোচনা অবশ্য বেশিদূর গড়ায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের বন্যা বয়ে যায় তাঁর চেহারা নিয়েই।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য। গ্রান্দে বা তাঁর দল কখনোই বলেননি যে তিনি কোনো অসুস্থতায় ভুগছেন। বিরতির সঙ্গে স্বাস্থ্যগত কোনো সম্পর্ক আছে কি না জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা আসেনি।

ছবি: রয়টার্স
গণমাধ্যম গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, তারকাদের চেহারা-সংক্রান্ত পোস্টগুলো ব্যতিক্রমী রকম বেশি প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। আর সামাজিক মাধ্যমের নকশাই এমন যে বেশি প্রতিক্রিয়া পাওয়া পোস্ট আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
ফলে যিনি সত্যিকারের উদ্বেগ থেকে কিছু লিখছেন, তাঁর পোস্টটিও ওই ছবিগুলোর নাগাল বাড়িয়ে দেয়। ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে বড় প্ল্যাটফর্মগুলো নির্দিষ্ট কিছু অনুসন্ধানকে সহায়তামূলক তথ্যের দিকে ঘুরিয়ে দিলেও তারকাদের ছবি ঘিরে গড়ে ওঠা এই আলোচনা সেই ফিল্টারের বাইরেই থেকে যায়।
শরীর নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গে গ্রান্দে অবশ্য নতুন করে কিছু বলছেন না। আলোচনাটি অন্তত তিন বছরের পুরোনো।
২০২৩ সালের এপ্রিলে টিকটকে দেওয়া এক ভিডিওতে তিনি জানিয়েছিলেন, অতীতে যে চেহারাকে অনেকে ‘স্বাস্থ্যকর’ ভাবতেন, সেই সময়টিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। সেদিন তিনি আরও বলেছিলেন, এই অভিজ্ঞতা কেবল তারকাদের নয়; খ্যাতি না থাকলেও শরীর নিয়ে মন্তব্য শুনতে হয় অসংখ্য মানুষকে।
এর দেড় বছর পর, ২০২৪ সালের নভেম্বরে ‘উইকেড’ ছবির প্রচারণার সময় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, ষোলো-সতেরো বছর বয়স থেকে জনসমক্ষে থাকায় নিজের সম্পর্কে সম্ভাব্য সব ধরনের সমালোচনাই তাঁর শোনা হয়ে গেছে। একটি বিষয়ের সমাধান করলে নতুন কারণে আবার শুরু হয়।
২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর সেই সাক্ষাৎকারটিই নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আবার শেয়ার করেন গ্রান্দে, ক্যাপশনে লেখেন সবার জন্য স্নেহভরা একটি স্মারক হিসেবে। ওই সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য ছিল, অন্যের চেহারা বা স্বাস্থ্য নিয়ে মন্তব্য করতে সমাজে যে সহজভাব তৈরি হয়েছে, সেটিই বিপজ্জনক।
সফরের বাকি রয়েছে আর তিন সপ্তাহের কিছু বেশি। বিরতি কতদিনের, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।