অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


বাংলাদেশের রপ্তানি খাত আবারও এক নতুন বাণিজ্য চাপের মুখে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রম (forced labor) সংক্রান্ত উদ্বেগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের একটি বড় প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হলে বাংলাদেশের পণ্যের ওপরও নতুন খরচ যোগ হবে।


মঙ্গলবার (২ জুন) ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (USTR) এই প্রস্তাব প্রকাশ করে। দীর্ঘ তদন্তের ভিত্তিতে নেওয়া এই উদ্যোগটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতির ‘ধারা ৩০১’ (Section 301) অনুযায়ী অন্যায্য বাণিজ্য চর্চা ও শ্রমমান নিয়ে করা পর্যালোচনার ফল।


প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৫টি অর্থনীতির পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। তুলনামূলকভাবে এটি নিম্ন হার হলেও বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে, তাই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (USTR) কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় (exemption) রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এবং টেক্সটাইল আমদানির জন্য আলাদা একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে প্রভাবিত করতে পারে।


এই প্রস্তাব এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বৈশ্বিক শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের বড় পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী কিছু শুল্ক নীতি বাতিল হওয়ার পর নতুন কাঠামো তৈরির এই উদ্যোগ আরও গতি পেয়েছে।


তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক পক্ষ এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে। ইউরোপের এক আইনপ্রণেতা মার্কিন তদন্তের ফলাফলকে “সম্পূর্ণ অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি হবে, এবং সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে রপ্তানিনির্ভর উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোর ওপর – বিশেষ করে পোশাক খাতনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে।