স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | ক্রাইম ক্রনিকল 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) দাবি করেছে, রাজধানীর মিরপুরে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ (৪৫) হত্যার 'মূল রহস্য' উদঘাটন করেছে তারা। ডিবির তথ্যানুযায়ী, কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার শুটার ভাড়া করা হয়েছিল, কিন্তু পরিকল্পিত হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে নিহত হন ইউসুফ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।

গত শুক্রবার রাতে মিরপুর ১৩ নম্বরে গুলির ঘটনা ঘটে, যেখানে ইউসুফ নিহত হওয়ার পাশাপাশি যুবদল কর্মী মনির হোসেন (৩২) ও সবজি বিক্রেতা সালাম সরদার (৪৫) আহত হন। ইউসুফের বড় ভাই মাসুদ রানা বাদী হয়ে গত শনিবার কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। ডিবির তথ্যমতে, গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন চঞ্চল (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ডিবি জানায়, হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রধারী চঞ্চলকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে দেয়। থানা–পুলিশ ও ডিবির মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ ও শাফিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের দেওয়া তথ্যে জিয়ারুল, আলী হোসেন, জিহাদ, আবির ও মাসুমকে বিভিন্ন জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি জানায়, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল, যা স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ব্যবসা ও একটি টিনশেড বাড়ির দখলকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়। এই বিরোধের জেরেই বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ জন্য ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়।

গত ২৯ জুন প্রথমবার হত্যাচেষ্টা চালানোর প্রস্তুতি নিলেও পিস্তলে গুলি ভরার সময় 'মিসফায়ার' হওয়ায় পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে ২২ জুলাই শুটাররা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। ২৩ জুলাই রাতে তাঁরা প্রস্তুতি নেন এবং ২৪ জুলাই রাতে বাবুর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা পরিচয় দেন। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশির চেষ্টা করা হলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফের বুকে গুলি করেন, এ সময় এলোপাতাড়ি গুলিতে মনির ও সালাম আহত হন।

ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, সম্পৃক্ততা থাকতে পারে, তবে সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাঁদের সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমান (সিএনজি হাফিজ) তাঁদের ভাড়া করে এনেছিলেন।

অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তিনি জানান, একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিগুলোর উৎস শনাক্তে কাজ চলছে। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও ডিবির ধারণা। হাফিজুর রহমানকে এই পরিকল্পনার মূল ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ২৫ লাখ টাকার চুক্তির অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল এবং হোটেল ভাড়া ও খাওয়ার খরচ বহন করা হয়েছিল।


এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।