স্টাফ রিপোর্টার। ক্রাইম ক্রনিকল 


নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বড় ছেলের পক্ষ নেওয়ায় ৭৫ বছর বয়সী মা মারিয়া বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ছোট ছেলে আলীর বিরুদ্ধে।


হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে তা বস্তাবন্দি করে প্রথমে টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। 


পুলিশ জানায়, সিংড়া উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা বেগমের দুই ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে মা মারিয়া বেগম বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষে অবস্থান নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ৫৫ বছর বয়সী ছোট ছেলে আলী। 


তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত প্রায় ৯টার দিকে আলী নিজ বাড়িতে মায়ের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন। এরপর হত্যার ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি টয়লেটে লুকিয়ে রাখেন। কয়েকদিন পর মরদেহে পচন ধরলে এবং দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে নিজের ছেলে আল আমিনের সহায়তায় মরদেহ বস্তাবন্দি করে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন। 


নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম গত ৬ জুন মায়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ৯ জুন আগপাড়া এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মারিয়া বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহভাজন হিসেবে আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে ছেলে আল আমিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


বুধবার দুপুরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, পারিবারিক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করার পরিকল্পনাও ছিল।


এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে সিংড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 


নাটোরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, পারিবারিক দ্বন্দ্ব যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন তার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত নির্মম ও হৃদয়বিদারক।