স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় একটি প্রবাসীর বাড়িতে জানালার গ্রিল কেটে ডাকাতি ও পরিবারের দুই সদস্যকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের সিকদারপাড়া ডলনিরঘোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন – রেজাউল, মেহেদী, বাবু, কেফায়েত ও তানজিদ। তারা সবাই স্থানীয় পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের বাসিন্দা। চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন ৬ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনার অধিকতর তদন্তের জন্য তিনি নিজে বর্তমানে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
এর আগে, স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল জানালার গ্রিল কেটে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে। একপর্যায়ে বাড়িতে অবস্থানরত প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মো. মাসুদ ডাকাতি ও মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর গুরুতর আহত মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর মামা সাইদুল ইসলাম মারুফ জানান, ডাকাতদলের পাশবিক নির্যাতনের শিকার তার ভাগ্নির অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
খবর পেয়ে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশসহ থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।