স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল
নরওয়ের তারকা ফুটবলার আর্লিং হালান্ডের নামে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল উক্তিকে উদ্ধৃত করে ডেইলি স্টার, যুগান্তরের প্রিন্ট সংস্করণ, এশিয়া পোস্ট, এটিএন নিউজ, সময়ের আলো সহ একাধিক গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে। তবে পরবর্তী যাচাইয়ে দেখা গেছে, উক্তিটির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এই সময় ও দ্য ওয়াল খবরটি প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল, ক্রীড়া বিষয়ক ফেসবুক পেজ এবং ফুটবল ভক্তদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টেও খবরটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদগুলোতে দাবি করা হয়, হালান্ড বলেছেন, "মেসি আমাকে কখনোই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট ছুঁতে দেবে না।" কোথাও আবার উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মন্তব্য করেছেন। তবে কোনো প্রতিবেদনেই নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম বা মূল পোস্টের সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট বিষয়টি যাচাই করে জানায়, হালান্ডের ইনস্টাগ্রাম, এক্স, ফেসবুক এবং স্ন্যাপচ্যাটসহ তার পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোতে এমন কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই ধরনের কোনো তথ্য আন্তর্জাতিক বা ইউরোপীয় নির্ভরযোগ্য ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়নি।

ছবি: দ্য ডিসেন্ট
যাচাইয়ে আরও উঠে এসেছে, সামাজিক মাধ্যমে যে স্ক্রিনশটটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এডিটেড। ভাইরাল ছবিতে হালান্ডের একটি স্ন্যাপচ্যাট স্টোরির ওপর "Messi is never letting me touch the World Cup Golden Boot" লেখা দেখা গেলেও, সেটি মূল পোস্টের অংশ ছিল না।
মূল স্টোরির স্ক্রিনশট ২৪ জুন প্রকাশ করেছিল প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ম্যাশেবল। সেখানে একই ছবির ওপর হালান্ড লিখেছিলেন "What a journey" এবং "So happy"—ভাইরাল হওয়া কথাগুলোর কোনোটি সেখানে ছিল না।
এছাড়া ইউরোপভিত্তিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউনা ডটকম-ও উক্তিটির উৎস অনুসন্ধান করে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিকে নিয়ে হালান্ডের মতো একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের এমন মন্তব্য সত্যিই হয়ে থাকলে তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হওয়ার কথা। অথচ নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এমন তথ্য না থাকায় ভাইরাল দাবিটির বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে কয়েকটি গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।