স্পোর্টস ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে ব্র্যান্ড দৃশ্যমান রাখা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বপ্নের বিষয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ব্র্যান্ড লেভাইসের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। ফিফার নিয়মের কারণে নিজেদের নামের স্টেডিয়ামেই লোগো ঢেকে রাখতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। তবে সেই সীমাবদ্ধতাকেই অভিনব মার্কেটিং কৌশলে পরিণত করে আলোচনায় এসেছে লেভাইস।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের অন্যতম ভেন্যু সান্তা ক্লারার লেভাইস স্টেডিয়াম। ফিফার ‘ক্লিন স্টেডিয়াম’ নীতিমালা অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল স্পনসর নয়—এমন কোনো ব্র্যান্ডের লোগো বা বাণিজ্যিক পরিচিতি ম্যাচ ভেন্যুতে প্রদর্শন করা যায় না। ফলে স্টেডিয়ামের উপরে থাকা বিশাল লেভাইস লোগো সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, স্টেডিয়ামের নামের অংশবিশেষ দৃশ্যমান থাকলেও ব্র্যান্ডের পরিচিত লোগোটি পুরোপুরি আবৃত। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতি কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য অস্বস্তিকর হলেও লেভাইস ভিন্ন পথ বেছে নেয়।
লোগো ঢেকে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ছবিও পরিবর্তন করে। সেখানে দেখা যায়, পরিচিত লাল ব্যাকগ্রাউন্ডের ওপর থাকা লেভাইসের ‘ব্যাটউইং’ লোগোটিও সাদা কাপড়ে ঢাকা। অর্থাৎ বাস্তবে যা ঘটেছে, সেটিকেই ডিজিটাল প্রচারণার অংশ বানিয়ে ফেলে ব্র্যান্ডটি।

মার্কেটিং বিশ্লেষকদের মতে, এটি ‘রিয়েল-টাইম মার্কেটিং’-এর একটি সফল উদাহরণ। কোনো বিতর্ক বা সীমাবদ্ধতাকে নেতিবাচকভাবে না দেখে সেটিকে ব্র্যান্ড গল্পে রূপ দেওয়ার কৌশলই অনুসরণ করেছে লেভাইস। ফলে যে লোগোটি স্টেডিয়ামে দর্শকদের চোখের আড়ালে চলে গিয়েছিল, সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপে অফিসিয়াল স্পনসর না হয়েও লেভাইস যেভাবে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে, তা অনেকের কাছে ‘ফ্রি মার্কেটিং’-এর উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ ফিফার নিয়মে লোগো ঢেকে গেলেও সংবাদমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবলভক্তদের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে ব্র্যান্ডটির নাম।
বিপণন বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, আধুনিক ব্র্যান্ডিংয়ের যুগে সব সময় দৃশ্যমান থাকাই সফলতা নয়; কখনো কখনো আড়ালে চলে যাওয়াও সবচেয়ে বড় প্রচারণার সুযোগ তৈরি করে। লেভাইসের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।