অর্থনীতি ডেস্ক | ক্রাইম ক্রনিকল


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে নগদ অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক বুথে গিয়ে গ্রাহকরা টাকা তুলতে ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো তারল্য বা প্রযুক্তিগত সংকট নয়; বরং নগদ অর্থের সাময়িক ঘাটতির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ না পাওয়ায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম নেটওয়ার্কে এই সাময়িক সংকট দেখা দিয়েছে।


বুধবার (১০ জুন) রাতে রাজধানীর বিজয় সরণি এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের তিনটি এটিএম বুথের মধ্যে একটি বন্ধ পাওয়া যায়। বাকি দুটি বুথেও নগদ অর্থ ছিল না। সেখানে উপস্থিত এক গ্রাহক জানান, গুলশান থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত কয়েকটি বুথে চেষ্টা করেও তিনি টাকা তুলতে পারেননি।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেক গ্রাহক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে এটিএম বুথে নগদ অর্থ না পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন।


গ্রাহক মহসিন হোসাইন ফেসবুকে লিখেছেন, সকালে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা তুলতে না পেরে তাকে বিকল্প উপায়ে বাজারের খরচ মেটাতে হয়েছে। অন্যদিকে মারুফ নামে আরেক গ্রাহক জানিয়েছেন, বনশ্রী, রামপুরা ও আফতাবনগর এলাকার একাধিক বুথে চেষ্টা করেও তিনি নগদ অর্থ পাননি।


তবে ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, নগদ অর্থের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ডিজিটাল ব্যাংকিং, অনলাইন লেনদেন ও আন্তঃব্যাংক অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে নির্বিঘ্নে লেনদেন করতে পারছেন বলেও জানা গেছে।


ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, “আমাদের কোনো ধরনের তারল্য সংকট বা প্রযুক্তিগত সমস্যা নেই।” তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ সরবরাহ কম পাওয়ার বিষয়ে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।


বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএমে নগদ অর্থের সংকট ব্যাংকটির নিজস্ব কোনো সমস্যা নয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ মানুষের হাতে চলে যাওয়ায় সাময়িকভাবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে অর্থের পরিমাণ বেড়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অর্থ আবার ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে এটিএম বুথগুলোতে নগদ অর্থের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আরও জানান, গত প্রায় দুই বছরে দেশের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নোট ছাপানো সম্ভব হয়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, নতুন নোটের নকশা প্রণয়ন এবং মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে বাজারে নতুন নোটের সরবরাহ প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।


এক কর্মকর্তা বলেন, দেশের অর্থনীতির আকার ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নতুন নোট বাজারে ছাড়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু গত দুই বছরে সে তুলনায় অনেক কম নোট মুদ্রণ করা হয়েছে, যা নগদ অর্থের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। মে মাস শেষে তা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।



এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মুদ্রার কোনো সংকট নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগদ অর্থের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ছুটির পর সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধের কারণে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। এ কারণে কিছু ব্যাংকের নগদ প্রবাহে সাময়িক চাপ দেখা দিতে পারে।


বিবৃতিতে বলা হয়, এটি একটি স্বাভাবিক ও অস্থায়ী পরিস্থিতি। ঈদের ছুটি শেষে নগদ অর্থ ধীরে ধীরে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরে আসলে তারল্য ও মুদ্রা প্রবাহ আবার স্বাভাবিক হবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে। একই সঙ্গে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।