নিজস্ব প্রতিবেদক | ক্রাইম ক্রনিকল
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে স্পা সেন্টারের আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে গুলশান-২ এলাকার পৃথক দুটি স্পা সেন্টারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে গুলশান থানা পুলিশ। অভিযানে প্রতিষ্ঠান দুটিতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও দেহব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে ২৮ জনকে আটক করা হয়। শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন বলেন, স্পা ব্যবসার আড়ালে অসামাজিক কর্মকাণ্ড, দেহব্যবসা এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কয়েকটি স্পা সেন্টার পরিচালনা করে আসছিল। এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা ও সৌন্দর্যচর্চার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল থেকেও বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মোর্শেদ আলম (৩৩), কায়কোবাদ সরকার (২৫), রমজান ভুঁইয়া (৪৫), মেহেদী হাসান (২৭), তারভীর আলম (২২), মাহফুজ কামাল স্বাধীন (৩২), মনিরুল ইসলাম মুন্না (২৬), মো. হাসান (৩৭), বাবুল হোসেন (৩৮), মো. মোস্তফা (৬০), পরিতোষ শীল (৩৭), মো. শোহান (২৫), রফিকুল ইসলাম রানা (৩৭), জহিরুল ইসলাম (৩৬), মো. আরিফুল ইসলাম (৪৩), খাদিজা ইসলাম শান্তা (২৫), ফাহিমা সুলতানা (২৫), রত্না আক্তার (২৩), মাহিমা আক্তার (২৪), ফারজানা আমিন (২৬), রোকসানা আক্তার (৩২), মায়া আক্তার (২৪), ফারিয়া ইসলাম (২৪), ইসরাত জাহান জয়া (২২), রুবিনা আক্তার (১৯), তাহিয়া ইসলাম (২৩), ময়না (২১) এবং মাহমুদা আক্তার (৪২)।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে স্পা সেন্টারের আড়ালে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারগুলো থেকে বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্পা সেন্টারকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, বৈধ ব্যবসার আড়ালে অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।