স্পোর্টস ডেস্ক, ক্রাইম ক্রনিকল


একসময় বিশ্ব ফুটবলে ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে এশিয়ার প্রতিনিধিদের লড়াই ছিল অসম শক্তির। কিন্তু সেই ধারণা বদলে দিচ্ছে জাপান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত ফল করে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ‘ব্লু সামুরাই’রা।


২০১৯ সালের পর থেকে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে পরাজয়ের মুখ দেখেনি জাপান। বরং বিশ্বকাপজয়ী ও ইউরোপের শীর্ষ দলগুলোর বিপক্ষে একের পর এক চমক দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বকে বারবার বিস্মিত করেছে তারা।


২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেয় জাপান। একই টুর্নামেন্টে স্পেনকেও একই ব্যবধানে পরাজিত করে তারা। পরে শেষ ষোলোতে ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করলেও টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয় জাপানকে।


বিশ্বকাপের পরও থামেনি তাদের অগ্রযাত্রা। ২০২৩ সালে প্রীতি ম্যাচে জার্মানিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় জাপান। একই বছরে তুরস্ককেও হারায় ৪-২ ব্যবধানে।




২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলতি বছরও ইউরোপীয় প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে দারুণ ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে দলটি। স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারানোর পাশাপাশি আইসল্যান্ডের বিপক্ষেও একই ব্যবধানে জয় পেয়েছে তারা। নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে জাপান।




বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের এই উত্থানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন কাঠামো এবং ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে নিয়মিত খেলা ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা। বর্তমানে জাপানের জাতীয় দলে এমন অনেক খেলোয়াড় আছেন, যারা ইংল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন ও ইতালির বড় ক্লাবগুলোতে নিয়মিত খেলছেন।


এশিয়ার ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও সৌদি আরব শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে জাপান নিজেকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ইউরোপের পরাশক্তিদের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করছে, বিশ্ব ফুটবলের বড় মঞ্চে এখন আর জাপানকে শুধুই ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।


বরং বলা যায়, ইউরোপের অনেক দলই এখন জাপানকে সমীহ করেই মাঠে নামতে বাধ্য হচ্ছে। ‘ব্লু সামুরাই’দের এই যাত্রা এশিয়ার ফুটবলের জন্যও নতুন এক আশার গল্প হয়ে উঠছে।