স্পোর্টস ডেস্ক। ক্রাইম ক্রনিকল
গত ২০ বছরে চলা তাবৎ ফুটবলীয় আলোচনা, টং দোকানের চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে বিশ্বের নানা দেশের ফুটবল এক্সপার্টদের বিশ্লেষণ, সাধারণ মানুষ থেকে সেলিব্রেটি, শিশু কিশোরদের ক্লাস রুমের বিতর্ক থেকে সোশাল মিডিয়া সব জায়গায় একটা প্রশ্ন ছিল কমন, কে সেরা? লিওনেল মেসি নাকি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো?
এই এক প্রশ্নে যেন পুরো পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত। কারো কাছে মেসিই অবিসংবাদিত সেরা আবার কেউ বা বেছে নেন রোনালদোকে।
দুইজনই যে অনন্য উচ্চতার খেলোয়াড় এবং ফুটবল ইতিহাসের সেরা দশের এলিট প্যানেলের সদস্য, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। দুইজনই গ্রেট, ক্যারিয়ারে অর্জনের কোনো শেষ নেই।
কিন্তু প্রশ্নটা যখন কে সর্বকালের সেরা তথা 'গ্রেটেস্ট' এর তখন একটা বিষয় অবধারিত ভাবেই সামনে চলে আসে আর তা হলো বিশ্বকাপ।
মেসি রোনালদোর আগে বছরের পর বছর ধরে এমন বিতর্ক হয়েছে ম্যারাডোনা ও পেলে কে নিয়ে। পেশাদার ক্যারিয়ারে ৭৬৭ গোল করা পেলের সাথে ক্যারিয়ারে মোট ৩৪৫ গোল করা ম্যারাডোনার নামই কেন উচ্চারিত হয়? ৮০৫ গোল করা জোসেফ বিকান ও তো ছিলেন, ছিলেন ৭৪৬ গোল করা ফেরেঙ্ক পুসকাস। ইউসেবিও, ডি স্টেফানোরাও তো ছিলেন। কিন্তু ওনাদের সবাইকে রেখে পেলে আর ম্যারাডোনাই কেনো? কারন ওই একটাই, বিশ্বকাপ।
আবার শুধু বিশ্বকাপ জিতলেও তো হবে না, জিততে হবে একক নৈপূণ্যে, জন্ম দিতে হবে কিছু 'জাদুকরী মুহূর্তের। তবেই তো তার নাম আসবে সর্বকালের সেরার বিতর্কে।
এবারে আসি মেসি রোনালদোর বিশ্বকাপ পরিসংখ্যানে। দুইজনেই খেলেছেন ৫ টি করে বিশ্বকাপ। ২৬ ম্যাচ খেলে মেসি করেছেন ১৩ গোল ও ৮ এসিস্ট। অপরদিকের ২২ ম্যাচ খেলা রোনালদোর রয়েছে ৮ গোল ও ২ এসিস্ট।
মেসি পাহাড়সম চাপ নিয়েও একক নৈপূণ্যে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন ২০২২ বিশ্বকাপ। জিতেছেন আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল ও সিলভার বুট।
এছাড়া ক্রোয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস ও মেক্সিকোর বিপক্ষের ম্যাচে উপহার দিয়েছেন তিন তিনটি জাদুকরী মুহূর্ত, যা ফুটবল ভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে আজীবন। শেষ ষোল থেকে ফাইনাল, সবগুলো নকআউট ম্যাচে করেছেন গোল।

২০১৪ বিশ্বকাপেও জিতেছিলেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। দলকে একাই নিয়ে গিয়েছিলেন ফাইনালে।
ইরান ও সুইজারল্যান্ডের সাথে জন্ম দিয়েছিলেন ইন্ডিভিজুয়াল ম্যাজিক মোমেন্টের।
এছাড়া ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ২ টি বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন মেসি, যা করে দেখাতে পারেননি আর কোনো খেলোয়াড়।
অপর দিকে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর সেরা সাফল্য ২০০৬ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে যাওয়া। এরপর ২০১০ সালে বিদায় নেন শেষ ষোল থেকে, ২০১৪ তে তো গ্রপ পর্বের বাধাই পেরোতে পারেননি। ২০১৮ তে আবারো বাদ পরেন শেষ ষোল থেকে। আর ২০২২ এ গিয়েছিলেন কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত।

এছাড়া বিশ্ব মঞ্চে রোনালদো কখনোই জিততে পারেননি কোনো ব্যক্তিগত পুরস্কার। ভক্ত সমর্থকদের তেমন কোনো জাদুকরী মুহূর্ত ও উপহার দিতে পারেননি।
২০২২ সালের আগেই শুধুমাত্র বিশ্বকাপ ছাড়া বাকি সব ব্যক্তিগত ও দলীয় অর্জনই নিজের করে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। তাও শুনতে হয়েছে 'ক্লাব লিজেন্ড' তকমা।
দোরগোড়ায় আরো একটি বিশ্বকাপ। বাকি আর মাত্র ৬ দিন। মেসি নির্ভার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই এবারের আসরে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে রোনালদোর জন্য এবার শেষ সুযোগ নিজের অপূর্ণতা ঘোচানোর, অধরা স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার। ৪১ বছর বয়সে এসে তা কি আদৌ সম্ভব? নামটি যখন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, অসম্ভব না কোনো কিছুই।