স্টাফ রিপোর্টার | ক্রাইম ক্রনিকল


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।


সম্প্রতি দেওয়া ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “যুগের জিন্নাহ নাহিদ ইসলাম, যুগের ইকবাল মাহফুজ আলম, যুগের মওদূদী সাদিক কায়েম। এত মারামারি না করে একজনকে বাছাই করে নিলেই তো হয়!”



নাহিদ ইসলাম (বা দিকে), সাদিক কায়েম ও মাহফুজ আলম


পোস্টে তিনি সমসাময়িক তিনজন রাজনৈতিক কর্মী ও সংগঠককে উপমহাদেশের তিন ঐতিহাসিক মুসলিম ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তুলনা করেন। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সঙ্গে তুলনা করা হয় নাহিদ ইসলামকে। কবি ও দার্শনিক আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের সঙ্গে তুলনা করা হয় মাহফুজ আলমকে। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদূদীর সঙ্গে তুলনা করা হয় সাদিক কায়েমকে।


                        

                         আল্লামা ইকবাল, মোহাম্মদ জিন্নাহ ও আবু আলা মওদুদী 


পোস্টটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে রাজনৈতিক রসিকতা বা ব্যঙ্গ হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকদের একটি অংশ বলছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে পাকিস্তানি রাজনৈতিক ও আদর্শিক ব্যক্তিত্বদের সামনে আনা প্রশ্নের জন্ম দেয়।


তাঁদের মতে, নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা ভাসানী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কিংবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বাঙালি নেতাদের পরিবর্তে পাকিস্তানি ব্যক্তিত্বদের ব্যবহার রাজনৈতিক অবস্থান ও মানসিকতার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা যেতে পারে।


অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, পোস্টটি মূলত সমর্থকদের অতিরঞ্জিত প্রচারণাকে ব্যঙ্গ করেই দেওয়া হয়েছে।


নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বর্তমানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি জাতীয় নাগরিক কমিটির সাবেক আহ্বায়ক এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসেন। পরে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।